Posts

পাশেই তো আছি...

গত ৭টা বছর ধরে পড়াশুনার জন্য নিজের বাড়ি,পরিবার সবকিছু ছেড়ে ঢাকায় এসে পড়ে আছি। যেদিন ঢাকার আসবো বলে বাড়ি ছাড়ি সেদিনের কথাটা এখনো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। প্রথম বারের মত বাবা-মা-ভাই-বোন সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে নিজে একা পরবাসী হচ্ছি মনের মদ্ধ্যে কেমন জানি একটা বোবা কান্না পাচ্ছিল। অনেক কাঁদতে ইচ্ছা হল, কাঁদবার চেষ্টাও করলাম, কিন্তু কেন জানি কাঁন্না বুক ফেটে বেরুতেই চাচ্ছিল না। নিজের মনের মদ্ধ্যে আগে থেকেই টের পেয়েছিলাম যে -আমার সুখের জীবনের ইতি বোধ হয় এখানেই ঘটলো। আমি ছিলাম আমার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। তাই আমার ঘর ছাড়া হবার আবেগ আমার বাবা-মা কেউই লুকিয়ে রাখতে পারল না। ওইদিন মা কেন জানি আমার সামনে কম আসতে চাচ্ছিল। বড় হয়ে যাবার পরও যেই মা আমাকে একমুঠো ভাতের দলার সাথে একরাশি আদর মাখিয়ে মুখে পুরে দিত,আমার সেই মমতাময়ী মা কেন জানি সেদিন আমার শেষবেলার খাবার টেবিলে সাজিয়ে কোথায় দূরে সরে গেলেন। মাকে ছাড়া শেষবেলার খাবারটা অতৃপ্তি নিয়ে অনেক কষ্টে শেষ করেছিলাম। যখন আমার রওনা দেয়ার সময় হয়ে পরলো, তখন আমি আম্মুকে মাটির দিকে তাকিয়ে আচলে মুখ ঢেকে কাঁদতে দেখলাম। সামনে আসার আগ...

আমি যেমন ছিলাম....

Image
অনেক লাজুক ছিলাম ছোটবেলায়। চুপচাপ থাকতাম, কারো সাথে বিশেষ কথাও বলা হত না। সবসময় একটা বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে বসে থাকতাম। মোটাসোটা বাচ্চা ছিলাম, যেখানে বসায়ে রাখা হত সেখানেই চুপ ! চিন্তাভাবনাও ছিল দার্শনিক কিসিমেরই। ছোটবেলাতেই আমার বিজ্ঞতার কাহিনী পরিবারের সবার কাছে বেশ রসের উৎস হয়ে গেল। একটা উদাহরণ দিলেই মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। একবার মামা আসল বাসায়। তখন আমার বয়স আর কত, খুব বেশি হলে দুই বছর। মামার বেশ ভক্ত আমি, যখন যাই ঘটে তখন তাকে উৎসাহ নিয়ে এসে বলাই আমার কাজ। উত্তরবঙ্গের কনকনে শীতের রাত তখন। সবাই আড্ডা মারছে, আমি অন্য কোথাও গভীর মনযোগে কিছু করছি দেখে আমাকে কেউ আর ঘাটছে না। কিছুক্ষণ পরে আমি চোখেমুখে আবিষ্কারের আনন্দ নিয়ে ছুটে এসে বললাম মামা ! দেখে যাও !! তারপরে আমার আবিষ্কারে মামা হতভম্ব হয়ে গেল। সেটা হচ্ছে আমি প্রাকৃতিক বড় কর্মটা সেরেছি মাটিতে এবং প্রচন্ড ঠান্ডায় সেটা থেকে হালকা ধোঁয়া বের হচ্ছে। মামা যখন হতবাক হয়ে আছে আমি তখন বিজ্ঞের মত মাথা দুলিয়ে বললাম, “মামা, আক্কা গরম”। এই আবিষ্কারের কথা ছড়িয়ে যেতে সময় লাগলো না। তখন ফেসবুক থাকলে নিঃসন্দেহে এই কাহিনী দে...